রেলে অলস কারো স্থান
নেই: মন্ত্রী Sun, Sep 16th, 2012 6:22
pm BdST (bdnews25.wapamp.com/Dhaka)
-
দায়িত্ব বুঝে নিয়েই
কর্মকর্তাদের
‘দুর্নীতিমুক্ত ও পরিশ্রমী’ হওয়ার
পরামর্শ দিয়েছেন নতুন
রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক। রবিবার
বেলা সাড়ে ১২টায়
তিনি রেল
ভবনে এসে শুরুতেই
কর্মকর্তাদের সঙ্গে মত
বিনিময় করেন। এরপর কথা বলেন
সাংবাদিকদের সঙ্গে। মন্ত্রী বলেন, “আমার
বিশ্বাস, আজ থেকে রেল
মন্ত্রণালয়ে কোনো দুর্নীতি হবে না।
দুর্নীতি করলে কাউকে ছাড়
দেয়া হবে না।” কর্মচারী-কর্মকর্তাদের
তিনি হুঁশিয়ার করেন,
“আমি অলসতা অপছন্দ
করি, যে পরিশ্রম
করবে না সে এই
মন্ত্রণালয়ে থাকতে পারবে না।” সঠিক সময় রেল চলাচল,
টিকেট
কালোবাজারি বন্ধ
করা এবং পরিষ্কার-
পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত
করাই মূল লক্ষ্য হবে বলে সাংবাদিকদের
জানান নতুন মন্ত্রী। গত বছরের ৪ ডিসেম্বর
রেলপথ মন্ত্রণালয়
যাত্রা শুরুর পর এর
দায়িত্ব নেন সুরঞ্জিত
সেনগুপ্ত। কিন্তু তার
এপিএসের অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনায়
ব্যাপক সমালোচনার
মুখে ১৬ এপ্রিল দায়িত্ব
থেকে সরে দাঁড়ান এই
আওয়ামী লীগ নেতা। এরপর
সুরঞ্জিতকে দপ্তরবিহীন
রেখে রেল দেখভালের
অতিরিক্ত দায়িত্ব
দেয়া হয় যোগাযোগ
মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে। তার
‘দৃশ্যমান’ তৎপরতার
কারণে পরের
দিনগুলোতেও আলোচনায়
থাকে এ মন্ত্রণালয়। গত বৃহস্পতিবার নতুন
পাঁচ মন্ত্রী ও দুই
প্রতিমন্ত্রী শপথ নেয়ার
পর শনিবার তাদের
দায়িত্ব বণ্টন করে দেন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মন্ত্রিপরিষদে ব্যাপক
রদবদলে আলোচিত রেলপথ
মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব
পান কুমিল্লার
চৌদ্দগ্রামের সংসদ সদস্য মুজিবুল হক,
যিনি সংসদে হুইপের
দায়িত্ব পালন
করে আসছিলেন। ‘সবার আগে নিজের
পরিচয়’ সাংবাদিকদের
সাথে আলোচনার শুরুতেই
নিজের পরিচয়
দিয়ে মন্ত্রী বলেন,
“আমার বাবা খাঁটি কৃষক
ছিলেন, আমি রাজনৈতিক পরিবার থেকে আসিনি।” নিজিকে একজন ‘সাধারণ
নেতা’ উল্লেখ
করে মুজিবুল বলেন,
জনসেবার মনোভাব
নিয়েই
তিনি রাজনীতিতে এসেছেন। একমাত্র পুঁজি ‘রথ’ মন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের
জন্য তার একমাত্র
পুঁজি আল্লাহর রসুল ও
‘রথ’। “রথ কথার অর্থ
হলো পরিশ্রম।
আমি কোনো অলস
লোককে পছন্দ করি না।
পরিশ্রম
করে আমি সফলতা পেয়েছি। আপনারাও পরিশ্রম
করে রেল মন্ত্রণালয়ের
সফলতা আনবেন”,
কর্মকর্তাদের বলেন
মুজিবুল। কর্মকর্তারা প্রচলিত
আইনের বিধি মেনে নিজ
নিজ দায়িত্ব
সঠিকভাবে পালন করবেন
বলেও তিনি আশা প্রকাশ
করেন। রেলের কর্মকর্তা-
কর্মচারীদের
মধ্যে আলস্য
দেখা গেলেই
ব্যবস্থা নেয়া হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন,
“অনেক স্টেশনে বাতি জ্বলে না,
অপরিষ্কার থাকে,
ওয়েটিং রুমে বসার
জায়গা থাকে না।
কর্মকর্তাদের অলসতার
কারণেই এর সমাধান হয় না। কর্মকর্তারা একটু
ফোন করলেই এর সমাধান
হয়ে যায়।” দুর্নীতি করলে ছাড় নেই মন্ত্রী বলেন, “আমার
কোনো লোভ নেই, একমাত্র
লোভ দেশবাসীর
সেবা করা।” বিগত সময়ে রেলের
দুর্নীতির
বিষয়ে কি পদক্ষেপ
নেবেন
জানতে চাইলে মুজিবুল
বলেন, “আগের দুর্নীতির বিষয়ে কোনো মন্তব্য
করতে চাই না।
যিনি দুর্নীতি করবেন,
তাকে কোনো অবস্থাতেই
ছাড় দেয়া হবে না।” মন্ত্রণালয়কে একটি পরিবার
হিসেবে দেখার আহ্বান
জানিয়ে কর্মকর্তাদের
উদ্দেশে তিনি বলেন,
মন্ত্রী থেকে শুরু
করে পিয়ন পর্যন্ত এ মন্ত্রণালয়কে একটি পরিবার
হিসেবে দেখতে হবে এবং সবাইকে পরিবারের
সদস্য হিসেবে কাজ
করতে হবে। তিন দিনের
মধ্যে প্রতিবেদন আগামী তিন দিনের
মধ্যে রেলের সব
সমস্যা চিহ্নিত
এবং সমাধানের উপায়
নির্ধারণ
করে আগামী তিন দিনের মধ্যে একটি প্রতিবেদন
উপস্থাপন করতে সচিব ও
ঊধ্বতন কর্মকর্তাদের
নির্দেশ দেন নতুন
মন্ত্রী। তিনি বলেন,
“সমস্যা সম্পর্কে অবহিত
হয়ে প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর
উপদেশ নিয়ে আপনাদের
সহযোগিতায়
আমি সমাধান করব।” সূচি থাকবে ঠিকঠাক,
থাকবে না কালোবাজারি রেল কর্মীদের
উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন,
ট্রেন ছাড়ার জন্য
সবাইকে সজাগ
থাকতে হবে,
“কোনো ট্রেন ছাড়তে দেরি হলে সংশ্লিষ্টদের
কৈফিয়ত দিতে হবে।” সময় মতো ট্রেন
ছাড়তে ‘টাকা পয়সা লাগে না’-
এমন মন্তব্য
করে মন্ত্রী বলেন,
সচেতন হলেই এসব
অনিয়ম ঠিক করা যায়। রেলের টিকেট
কালোবাজারির সুযোগও
বন্ধ
হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ
করেন। রেলের বেদখল
জমি উদ্ধারে কি পদক্ষেপ
নেয়া হবে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন,
“বেদখল হওয়া জমির
তালিকা করে উদ্ধার
করা হবে।” ‘মন্ত্রী পরিবর্তন
দুর্ভাগ্য নয়’ মাত্র দশ মাসে তিনবার
মন্ত্রী পরিবর্তনের
বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে মুজিবুল
বলেন, “মন্ত্রী পরিবর্তন
হওয়া দুর্ভাগ্যের
কোনো বিষয় নয়। আগে যারা রেলপথমন্ত্রী ছিলেন,
তারা সবাই বিজ্ঞ লোক।
তাদের সম্মান জানাই।” “আমার যেন দুর্ভাগ্য
না আসে- সেজন্য সকলের
সহযোগিতা চাই”, যোগ
করেন মুজিবুল। ভাড়া বাড়লে সেবাও
বাড়বে আগামী অক্টোবর
থেকে ট্রেন ভাড়া ৫০
শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব
সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন,
রেলের ভাড়া ওই
পরিমাণ বাড়ালেও তা অন্য পরিবহনের
চেয়ে কম থাকবে। গত ২০ বছর ট্রেনের
ভাড়া বাড়ানো হয়নি উল্লেখ
মন্ত্রী বলেন, “জনগণ
সেবা চায়,
ভাড়া যদি বৃদ্ধি পায়,
তাহলে সেবার মানও বাড়বে।” ‘ভুল হতেই পারে’ গণমাধ্যম কর্মীদের
উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন,
“আমার ভুল হতেই পারে,
আমি ফেরেশতা নই,
কোনো খবর পত্রিকায়
দেয়ার আগে আমার সাথে কথা বলে নেবেন।
আমাকে বলবেন ভুল
হচ্ছে এবং সংশোধন
করার সুযোগ দেবেন।” মন্ত্রীর
সঙ্গে কথা না বলে পত্রিকায়
‘বড় হেড লাইন’
দিয়ে সংবাদ প্রকাশ
না করারও আহ্বান
জানান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ও ওবায়দুল কাদেরের
উত্তরসূরি।